নাজিয়া কানিজ – ফরেক্স ও এ্যাফিলিয়েটের নামে প্রতারণা – পর্ব-০১

নাজিয়া কানিজnazia-kaniz-fraud, অনলাইনে কম বেশি সবার কাছে পরিচিত। তার মানুষের সাথে মেশার ধরণ, প্রতারণার ফাঁদে ফেলার ধরণ সবকিছুই প্রায় একই রকমের। শত শত মানুষকে শর্টকার্টে বড়লোক বানানোর প্ল্যান দেখিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছে। তার ফাঁদে পা দিয়েছে অনলাইন-অফলাইন জগতের অনেক মানুষ। চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে, খুলনা কিংবা ঢাকা কোথাও তার প্রতারণার জাল বিস্তারে থেমে থাকেনি। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ছাত্র কেউই বাদ যায়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের সামনে একেক জনকে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও আদৌ তার কোন স্বামী নেই। প্রায় কয়েক বছর আগে নিজের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে এখন টাকাওয়ালা লোকদের ফুসলিয়ে নিজের জালে আটকে রাখছেন। আমাদের অনলাইন কমিউনিটিতে যার সাথে রোমান্টিক ছবি আর রোমান্টিক কবিতা’র লাইন দেন, তিনি তার স্বামী তো নন-ই। যাই হউক, এই সব তার ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপার স্যাপার। তাই, এই বিষয়ে আমাদের কিছু বলারও নেই।

কিন্তু, এই একই পদ্ধতিতে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েকশ লোকের নিকট থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। শুধুমাত্র [নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এখন বিদেশে আছেন] এক ব্যক্তির নিকট থেকেই হাতিয়ে নিয়েছেন ২৫ লক্ষ টাকা। এই রকম অনেক মানুষই আছেন, যারা লজ্জায় এখন মুখও খুলতে চাচ্ছেন না। সেই সব বিষয়ে আরও বিস্তারিত লেখা হবে দ্বিতীয় পর্বে।

শুধুমাত্র একজনের কাছ থেকেই নাজিয়া কানিজ হাতিয়ে নিয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। সে ব্যক্তি এখন দেশের বাইরে। স্কীনশট অনেক আগেই নেয়া ছিল।

শুধুমাত্র একজনের কাছ থেকেই নাজিয়া কানিজ হাতিয়ে নিয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। সে ব্যক্তি এখন দেশের বাইরে। স্কীনশট ২০১৩ সালে নেয়া। এমন আরও অনেকেই আছেন, যাদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

১ম পর্বে থাকছে রুবেল এসবিএস ভাইয়ের লেখা। তার আগে দেখে নিন, নাজিয়া কানিজের পর্দার পিছনের চেহারা…..নিচের ভিডিও তে

শ্রদ্ধেয় নাজিয়া কানিজ আপু, আশা করি এখন কিছুটা ভালো আছেন। বাংলাদেশের অনলাইন জগতে (ফরেক্স এর নানী)।আপনার থাবায় ভুক্তভোগীরা বলে, অনলাইনের মিষ্টিভাষী চিটার, ভদ্র মুখোশধারী লোভী এবং নিম্নমানের ছেসড়া প্রতারক… এগুলা আমার গালি না আপু, এগুলা আপনার প্রতারণায় নিঃস্ব হওয়া ভুক্তভোগীদের মুখের সামান্য কিছু বাক্য। আমি আপনাকে গালাগালি করতে চাই না, কেননা আমার গালাগালিটা আবার ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাফিং হয়ে যাবে 😉

আপনাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার ইচ্ছা কিংবা মন মানুষিকতা কোনটাই আমার ছিল না।

যেহেতু গত ৪৩ দিন আগে আপনার মেয়ে মারা গেছে। জাতী এখন আপনার সাথে গভীর সমবেদনা নিয়ে আছে। আমার কাছে পালিয়ে আছেন বলে ম্যাসেজে সমবেদনা জানাতে পারি নাই। তার জন্য দুঃখিত… তাই আজ সবার সামনে বলতেছি।

আল্লাহ্‌ পাক তার নিষ্পাপ বান্দাকে তাড়াতাড়ি নিজের কাছে নিয়ে গেছে, মন ভরে  আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করি, সে জেনো জান্নাতবাসী হয়… আমীন

 

যাই হোক! এবার মূল আলোচনায় আসি,

নাজিয়া কানিজ হচ্ছেন একজন ফরেক্স ট্রেডার (তার প্রোফাইলে দেওয়া ইনফো)

Owner at Self-Employed and works at Marketer at Affiliate marketing and Trader at Forex
Past: Amazon Affiliate, YouTube Marketing And Adsense,Affiliate Marketplace Like”Clickbank.com,Clicksure.com,JVZoo.com,And others And Also CPA Marketing and Affiliate Marketing

Screenshot_1বছর খানিক আগে সে প্রথম Hostsbs.com থেকে ডোমেইন নেয়, সেই খাতিরে আমার সাথে পরিচয়। পরে অনলাইন প্রফেশনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মাঝে মাঝে যোগাযোগ করত। ছোট ভাইয়ের মতো তুই-তুমি বলে ডাকতো, আমিও ক্লাইন্ট এবং বড় আপুর মতোই সন্মান করতাম। পাবলিক স্ট্যাটাসেও রেগুলার লাইক কমেন্ট দিতো।

সে ফরেক্স ট্রেনিং দিতো, তার কিছু স্টুডেন্টও ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল রিলেটেড ইস্যুতে নক দিতো। মাস ২ আগে তার একজন এসিস্টেন্ট ফোন দেয়, আমি বিজি থাকায় রিসিভ করতে পারি নাই। পরে দেখি সে ম্যাসেজ দিয়েছে-

আমি হাসান, নাজিয়া কানিজের হয়ে মাঝে মাঝে ডোমেইন হস্টিং বিল পেইড করতাম। আপনার সাথে কিছু কথা আছে, ফোনে বলা দরকার। সে এখানে কিছু মানুষদের সাথে বিশাল প্রতারণা করে চট্রগ্রাম পালিয়ে গেছে। আপনার নামেও বলে, আপনি নাকি তার কাছে এফিলিএট মার্কেটিং শিখেছেন আর এখন বেইমানী করছেন

খাইছে রে বুইড়া বেটি কয় কি ! সত্যিই আমি আকাশ থেকে পরলাম 😛 আমি আবার এফিলিএট শিখলাম করবে আর বেইমানী তো ভবিষ্যতের কথা :v আমি তো গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে ফুল টাইম ব্লগিং করি 😛 তার কাছে এফিলিএট শিক্ষা 😛 মস্করা করেন কেন আপু :v

তখন বুঝলাম এখানে কিছু টুইস্ট আছে,

(অতীতের কিছু টাকা পাই তাই দুর্নাম শুরু করছে) পরের রাতে ফ্রী হয়ে ওই লোককে কল দিলাম। তাকে বললাম, আপনি তো তার অফিসে থাকছেন, কাহিনী কি ভাই ?

পরে সে অনেক ঘটনা শুনাইল, তাদের কয়েকজনরে নাকি ফরেক্স আর এফিলিএট শেখানোর জন্য চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা নিয়ে আসছে, কেউ কেউ চাকরী ছেড়ে আসছে, কেউ বেকার ধার লোণ করে, তার কাছে ট্রেনিং নিতে আসছে। ৩-৪ মাসে ফলাফল কাউরেই ঠিকমতো ক্লাস নেয় নাই, ঢাকা-চট্রগ্রাম বলে বলে ঘুরাইছে। কোর্স ফী ১৫ হাজার টাকা ছারাও সবাইরে সাইটে এবং ট্রেডে ইনভেস্ট করাইছে, কেউ হাজারপতি হইতে পারে নাই 😛

বেকার ছিল তারা অনেকেই আরও নিঃস্ব হয়ে গেছে, কেউ কেউ ঋণের দায়ে বাড়ি যায় না। আরও বহুত কাহিনী… আমি বললাম খুবই দুঃখজনক…

ডিসেম্বরের দিকে আমার রেফারেন্সে এক ছোট ভাইয়ের কাছে ২৫০ ডলার সেল করছিলো, পরে সেটা ডিস্পুট মেরে রিটার্ন নিয়ে নিছে। যে কিনছে, সেতো রাগ করাটাই স্বাভাবিক, নাজিয়া আপু পেমেন্ট রিটার্ন দিবে দিবে বলে ডেট দেয়, কিন্তু দেয় না, পরে মান- ইজ্জৎ বাঁচাতে আমি আর #অন্যরকম_মানুষ ভাই মিলে জরিমানা দিয়ে ব্যাপারটা সমাধান করেছি। এই টাকার জন্যই তাহলে আমার দুর্নাম শুরু করে দিয়েছে 😛 উপকার করে মাইরি কালারে পরে গেলাম। (সেগুলা কিছু স্ক্রিনশট নিচের দিকে দিবো)

লোকটার ধরা খাওয়ার ম্যাসেজগুলো দেখে সত্যিই চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টকর… ছাত্রগুলা টাকাও দিলো ধরাও খাইল, আবার তাদেরকে  পুলিশেও দিতে চায় ??? আজব…

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০১

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০১

কিছু ভুক্তভোগীদের কোর্স ফী হিসাব (নাজিয়া কানিজের নিজ হাতের লেখা)

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০২

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০২

সাথে চুক্তিনামা 😛 সকল ছাত্ররা প্রথম ৫ হাজার ডলার থেকে ২৫০০ ডলার নাজিয়া আপাকে দিতে হবে। (এতো দেখি ধনী মাপের চিটার)

তার মেয়ে মারা যাওয়ার খবর নিতে কিছুদিন আগে সেই “নিঃসঙ্গ হাসান” ভাইকে নক দিলাম।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৩

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৩

তার মেয়ে মারা যাওয়ার কিছু দিন আগে আরেক ভদ্রলোকের নাকি ১৫০০ ডলার খালি করে দিছে… সেও কোন একশন নিতে পারছে না। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে দেখি সাপ বের হয়ে আসলো 😛

যাকে সে তার স্বামী বলে পরিচয় দেয়, ফেসবুকে একসাথে ছবি দিতো, সে নাকি তার বিয়ে করা স্বামী না 😛 তার মেয়ে তুনের আসলে বাবাও সে না। তার আসল স্বামী নাকি ছিল তার আপন চাচা… আস্তাগফিরুল্লাহ 🙁 (সম্পত্তির লোভে)

এই ভিডিওটাতে কিছু রিয়াল ট্রেইলার দেখতে পারবেন। মনোযোগ দিয়ে ভিডিওটি দেখুন।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৪

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৪

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৫

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৫

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৬

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৬

গত বসর নভেম্বর মাসে নাজিয়া আপু তার ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং বিষয়ে আমারে নক দেয়। তখন তার টার্গেটেড অডিয়েন্স জানার জন্য কিছু প্রশ্ন করেছিলাম। যে আপনার এই প্রোডাক্টগুলোর ক্রেতা কোন টাইপের পিপল? (৫-৬ নং স্ক্রিনশট) তখন সে আবেগে সত্যি কথাগুলোই লিখে ফেলেছিল 😉 কেননা সেটা তার বিজনেসের বিষয়ে আলচনা করতেছিলো।

তার প্রোডাক্ট এর ক্রেতা গরীবরা, নিউ ট্রেডাররা, সে নিজেই লজ খায়, যারা কিনবে তারাও আল্টিমেট লজ খাবে। (যা ফ্রী তে পাইত, নতুনদের বেকুব বানিয়ে বিক্রি করতো)। আর এগুলা সব বেচা-কেনা করতো পার্সোনাল ম্যাসেজে (পিএম ইনবক্সে)। পড়ে ওই বিষয়টা আমি এড়িয়ে গেছি। আমি আর তাকে ইউটিউব মার্কেটিং নিয়ে হেল্প করতে পারি নাই।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৭.০১

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৭.০১

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৭.০২

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৭.০২

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৭.০৩

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৭.০৩

নাজিয়া আপা ৬-৭ মাস আগে হটাত একটা আর্জেন্ট বিপদে পড়েছিলো, আমাকে খুব রিকুয়েস্ট করে বলেছিল, আর্জেন্ট কিছু পেপাল ডলার বিক্রি করে দিতে। ঐসময় মাঝে মাঝে Hostsbs থেকে ডোমেইন নিতো, লেনদেন খারাপ ছিল না।

তার নাকি সকালের আগে টাকা না হলে ঢাকা সহরে বিপদে পড়ে যাবে, তাই আমি তেমন কিছু চিন্তা না করেই কাছের ছোট ভাই @Masum এর কাছে রেফার করেছিলাম। আর ফাইনালি সে ১৪০+১১০ ডলার সেল করেছিলো। আমাকে অনেক অনেক থ্যাংকসও দিয়েছিলো।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৮

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৮

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ০৯

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ০৯

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১০

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১০

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১১

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১১

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১২

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১২

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৩

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৩

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৪

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৪

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৫

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৫

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৬

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৬

জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে ডাইনী মহিলা ছেসড়ার মতো পেপাল ডিস্পুট দিছে। আমি তারে কাহিনী জানাইলে, আর নানারকম ভাবে নয়-ছয় বুঝাইয়া না বুঝার মতো ভান করে আর মিষ্টি ভাষায় বলে, সে পেইড করে দিবো। ডোন্ট অরি…

ওই সময়ে ওই ২৫০ ডলার দিয়া মাসুম ১ টা সার্ভার কোম্পানির বিল পেইড করছিলো। কোম্পানি থেকে সার্ভার সাস্পেন্ড ঝামেলা হইবে বলে মাসুমরে খুশী রাখার জন্য আমি আর #অন্যরকম_ভাই দায়িত্ব নিয়ে ওই টাকা পেইড করে ঝামেলা মিটাইলাম। (যেহেতু সে বলছে ফেব্রুয়ারিতে পেইড করে দিবে) মাসুম Hostsbs এর বড় বড় কিছু সার্ভার সমস্যাতে সাপোর্ট দিয়েছে, তার ঋণ আমি কোনদিন শোধ করতে পারবো না। কাজেই ২ টেকার নাজিয়ার জন্য ছোট ভাই-ব্রাদারদের কাছে ইজ্জৎ হারাইতে পারবো না।

২-৩ মাস বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোরানোর পড়ে নাজিয়া রিপ্লাই দেওয়া বন্ধ করে দিলো। লাস্ট ৪৭ দিন সে কোন রিপ্লাই দেয় নাই। অথচ অনলাইনে থাকতো, ফেসবুকে বেসমের মতো মানুষের সাথে প্রেম প্রেম স্ট্যাটাস নিয়া দেখতাম কমেন্ট করতো। আমি খোজ খবর আপডেট জানতে ম্যাসেজ দিলে সিন করতো, বাট নির্লজ্জের মতো রিপ্লাই না দিয়ে চুপ করে থাকতো। আরে ভাই সমস্যা থাকতে তো সেটাও বলবেন নাকি ?

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৭

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৭

আপু ডিস্পুট মারার ৮১ দিন পড়ে আমি জিগাইছি…

Hi apu 🙂 How are you ?
kono update nai…
apnar kisu hoyeche?

আপনি অনলাইনে থেকে সেটাও সিন করলেন, কিন্তু উত্তর দিলেন না… বাহ ফাইন B|

মনে মনে আরও একটা রিপ্লাই দিতে ইচ্ছা হয়েছে…

ফহিন্নির বাচ্চা ফহিন্নি ! আমি জিগাইছি হাউ আর ইউ ? আপনার কিছু হইছে?

এর মানে এই না যে টাকা দেন না কেন 😛 এরকম ২০০-৩০০ ডলার ভাই-ব্রাদার নিয়া চা খাইতেই প্রতি মাসে খরচ করি B|

এর পড়ে আর তাকে কোন ম্যাসেজ দিতে ইচ্ছা জাগে নাই, ঘৃণা লাগতো। না পারলে বলে দিতেন, পারছি না দাবী ছেড়ে দেও… জিবনেও আর কোনদিন দাবী রাখতাম না। কিন্তু আজ আপনার ব্যাবহারে বলছি আল্লাহ্‌র কাছে এটার হিসাব আপনাকে দিতেই হবে।

৬ মাস আগের এসব বিষয় পাবলিক প্লেসে শেয়ার করার কোন আমার ছিল না। সে জন্য কখনো শেয়ার করি নাই। কিন্তু মাস ২ আগে তার থাবায় ধ্বংস হওয়া ভুক্তভোগীদের ম্যাসেজ দেখে খুব রাগ হয়েছিলো। ভাবলাম কিছু লেখা দরকার…

বসর খানিক আগে  বাংলাদেশের অনলাইন জগতে ৩ জন সিনিয়র এফিলিএট মার্কেটারদের নামে নাজিয়া কানিজের বলা ৩ টা ম্যাসেজ মনে পড়ে গেলো। অতীতে পরিচয়ের শুরুর কালে জিগাইছিলাম, আপনি তো এফিলিএট করেন, তো উনাদের সাথে রিলেশন ক্যামন ?

নাজিয়া কানিজ দেশের স্বনামধন্য অনেক সিনিয়র ব্লগার ও এ্যাফিলিয়েট মারকেটারদের ব্যাপারেও অনেক মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়িয়েছে। সিনিয়রদের প্রতি সম্মান রয়েছে বিধায় আমরা তাদের নাম প্রকাশ করে তাদেরকে বিব্রত করতে চাচ্ছি না। নাজিয়া কানিজের কথায় বিশ্বাস করার কোন প্রশ্নই উঠে না

এসব কোনদিন শেয়ার করি নাই, আজ বললাম একটাই কারন…

যেহেতু উনাদের নামে সে আমার কাছে এমন রিভিউ দিয়েছে, সেহেতু সে আমার নামেও অলরেডি অন্যান্য মানুষদের কাছে দুর্নাম এবং নেগেটিভ ছড়াচ্ছে…বাট, আজ অনলাইন প্রফেশনাল কমিনিটি তার ব্যাপারে আসল জিনিশটা জানুক।

আল্লাহ্‌র কি খেলা !

ওই ধরা খাওয়া স্টুডেন্ট লোকগুলার সব ইতিহাস শুনার ১০-১৫ দিন পরেই তার মেয়ে মারা গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লো। তাই তখন আর লেখার ইচ্ছা মনে জাগল না।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৮

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৮

তার মেয়ে মারা যাবার ২-৪ দিন পর থেকেই দেখি সে ফেসবুকে কান্নাকাটি আর গ্রুপ খুলে ভিক্ষা শুরু করে দিয়েছে। ইভেন… এটা ক্যামনে সম্ভব যে তার মেয়ে মারা যায় ৫ তারিখে আর সে ফেসবুকে গ্রুপে আবারও নিরীহ ৫০ জনকে ফ্রী ট্রেনিং এর নামে থাবা বসানোর প্ল্যান করতেছে। (যে ফহিন্নি ৬ মাসে ২০০ ডলার শোধ করতে পারে নাই)

কোর্স ফী নাই, কিছু শর্ত আছে 😛 আবারো মনে পড়ে গেলো (স্ক্রিনশট ৫-৬ নং) ইনবক্সে ফরেক্সের জিনিশ দিয়া গরীবদের বেকুব বানায়, লজ খায়…

এক ভাই তার পোস্টে কমেন্ট করলো, আপনার মেয়ে মারা গেছে আর আপনি এতো সহজেই সব সেরে উঠে ফেসবুকে এসব করতেছেন, নাজিয়া উনার কমেন্টের রিপ্লাই দিলো, ফেসবুক আমার ইনকামের জায়গা 😛 :v লোল… কয় কি

আসলেই কি তার মেয়ে মারা গেছে নাকি অন্য কারো মেয়ে মারা গেছে ? নাকি ভিতরে আরও কিছু আছে ? সেগুলা জানার জন্য লাস্ট ২ দিন কয়েকজনের কাছে তথ্য নিলাম। যারা তার কাছের লোক এবং মেয়ে মারা যাওয়ার নিউজ পোস্ট করেছিলো।

স্ক্রিনশট – ১৮ এর ডান পাশে তার এক্স বয় ফ্রেন্ডের রিপ্লাই দেখেন।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ১৯

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ১৯

তার মেয়ে মারা গেছে ৫ তারিখে, তার ১৭ তারিখে পোস্ট এবং ২০ তারিখের ডলার ডলার  কমেন্টস এর ভাষা কি বুঝাইল আমি আজও বুঝলাম না। আসলেই কি তার মেয়ে মারা গেছে ?

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ২০

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ২০

 

এসব দেখে সন্দেহ লাগলো, অনেকেই তার মেয়ে মারা যাওয়ার নিউজ নিয়ে নানারকম মন্তব্য করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে কি একজনও নাই যে তার মেয়ের লাশ দেখেছে ? জানাজায় কবর পর্যন্ত গিয়েছিলো ?

@Masud Sarkar ভাই প্রথম ফেসবুকে মৃত সংবাদ পোস্ট দিয়েছিলো, তাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, যে ভাই আপনি লাশ দেখেছেন কিনা… সে সত্যি কথাই বলেছেন। তার মতামতের উপরে নাজিয়ার আরেকটা পোস্ট পেলাম।

নাজিয়া কানিজ - স্কীনশট ২১

নাজিয়া কানিজ – স্কীনশট ২১

মেয়ে মারা যাওয়ার ৭ দিন পড়ের পোস্ট। আজব দুনিয়া… মা মেয়ে সারাদিন সেলফি সেলফি নিয়া ফেসবুকে ছবি আপলোড দিতো। আর এই স্ট্যাটাস দেখে মনে হচ্ছে এরা কোন পীরের বংশধর ছিল। কিন্তু মেয়ে মারা যাওয়ার ৭ দিন পড়ে একজন মা এমন স্ট্যাটাস ক্যামনে দেয়? পুরাই নস্টালজিক হয়ে গেলাম রে জলিল চাচা…

শেষ বারের মতো আবারো দোয়া করি তার মেয়ে মারা গেলে আল্লাহ্‌ তাকে জান্নাতবাসী করুন। আর বেঁচে থাকলে এই মায়ের হারাম ছায়া যেন সে কোনদিন না দেখে… আমীন…

আর কিছু লিখতে ইচ্ছা হচ্ছে না, অন্তর থেকে লিখতে নিজের প্রতি ঘৃণা আসতেছে। এমন মানুষের অভিনয় বাংলাদেশের অনলাইন কমিনিটিতে মানুষরা ধরতে পারতেছে না। কিন্তু উপর ওয়ালা জানেন… এই স্ক্রিনশতগুলার ১ টা লাইন ও মিথ্যা না 🙂

আমাদের কাছে অলরেডি অনেকের সাথে প্রতারণার তথ্য-প্রমাণ এসেছে। যা দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা আরও যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারা অনুগ্রহপূর্বক যোগাযোগ করুন অথবা আপনার বিস্তারিত তথ্য মেইল করুন info@onnorokom.pw তে।

দ্বিতীয় পর্বে আসছে…..

  • কত গুলো মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে নাজিয়া কানিজ? 
  • কিভাবে সে মানুষকে প্রতারণার জালে আটকে ফেলত?
  • কেন প্রতারিত মানুষ গুলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বা নেয়নি? 
  • বেশ কিছু অডিও রেকর্ডও পাবলিশ করা হবে।
  • মানুষকে ফাঁদে ফেলতে তিনি কি কি ধরণের নোংরা কাজ করতেন তার প্রমাণ/ভিডিও সহ। 
  • সবশেষে, তুন’র আকস্মিক মৃত্যু ও মৃত্যুর পর Donation এর নামে নতুন ধান্দা। বিস্তারিত সব আসছে।

Comments 6

  1. Eliyas Ahmed June 14, 2016
  2. Hosain June 14, 2016
  3. Rasel Khan June 14, 2016
  4. shahadat hosain fx June 17, 2016

Leave a Reply

এই ব্লগে যে সকল প্রতারণার খবর প্রকাশ করা হয় তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই করা হয়। এছাড়াও অনেক ভুক্তভোগীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়েও লেখা প্রকাশ হয়। যদি কোন ভুক্তভোগী ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে বলে আপনার মনে হয়, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক মেইল করুন info@onnorokom.pw।